উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডন যাচ্ছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া!

প্রকাশিত: ৮:২৬ পূর্বাহ্ণ, জুন ১৯, ২০২০

চিকিৎসার জন্য যেকোন সময় বিদেশ যাচ্ছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া- আবারো এমন গুঞ্জন শুরু হয়েছে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে। শোনা যাচ্ছে, উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন। তিনি ও তাঁর গৃহকর্মী ফাতেমার যুক্তরাজ্যে যাওয়ার ভিসাও করা হয়েছে বলের খবর আসছে। দেশের করোনা পরিস্থিতির উন্নতি ও সরকারের সবুজ সংকেত পেলেই শিগগিরই বিষয়টি জনসম্মুখে পরিষ্কার হবে।

সম্প্রতি জিয়া পরিবারের ঘনিষ্ঠ স্বজনদের একটি সূত্র বলছে, বেগম জিয়া এখনই রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়াতে চান না। চিকিৎসা এখন তার প্রধান বিষয়। দেশের করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হলে এবং সরকারের সবুজ সংকেত পেলে খালেদা জিয়ার বিদেশ যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা আসবে। একটি চার্টার্ড বিমানে করে তাকে লন্ডন নিয়ে যাওয়া হতে পারে বলেও জানিয়েছে ওই সূত্র। তবে সরকারের সবুজ সংকেত কখন আসতে পারে? এবিষয়ে বিএনপির একটি সূত্র বলছে, খালেদা জিয়ার বিদেশ যাওয়ার প্রক্রিয়া তখনই চূড়ান্ত হবে, যখন সরকার মনে করবে খালেদা জিয়া বিদেশে গেলে সরকারের কোনো ক্ষতি নেই। অর্থাৎ তিনি লন্ডনে থাকলেও সরকারের বিরুদ্ধে সরব হবেন না—এমন নিশ্চয়তার পাশাপাশি খালেদা জিয়া দেশে অবস্থান করলে রাজনীতির অন্য কী ‘লাভ’ রয়েছে, সেগুলোও হিসাবে মিলেলেই আসতে পারে সবুজ সংকেত। গত বছরের মার্চ থেকেই শোনা যাচ্ছে, উন্নত চিকিৎসার জন্য প্যারোলে মুক্তি নিয়ে কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বিদেশ যাবেন। এরপর থেকেই বিএনপি নেত্রীর চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার বিষয়টি বারবার উঠে এসেছে তার পরিবার এবং দলীয় নেতাদের মুখে। সবশেষ দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ও আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেছেন, ‘ম্যাডামকে (খালেদা জিয়া) নির্বাহী আদেশে মুক্তি দেয়া হয়েছিল সুচিকিৎসার জন্য। কিন্তু বৈশ্বিক মহামারি করোনা কারণে তার সে উদ্দেশ্য এখনও সফল হয়নি। প্রায় তিন মাস হতে চললে তিনি উন্নত চিকিৎসা পাচ্ছেন না।’ বিএনপির এ আইনজীবী বলেন, ‘সারাবিশ্বের যোগাযোগ বন্ধ থাকলেও অনেকেই বিশেষ প্লেনে বিদেশে চিকিৎসার জন্য যাচ্ছেন। সেক্ষেত্রে ম্যাডাম যদি ইচ্ছা পোষণ করেন সরকারের কাছে বিদেশে যাওয়ার জন্য আবেদন করেন। তাহলে তাকে বিশেষ প্লেনে হলেও বিদেশে চিকিৎসার জন্য যেতে দেয়া উচিত বলে আমি মনে করি।
সরকারের নির্বাহী আদেশে ছয় মাসের সাজা স্থগিত হওয়ায়, কারামুক্ত হয়ে গত ২৫ মার্চ থেকে গুলশানের ভাড়া বাসা ‘ফিরোজা’য় আছেন খালেদা জিয়া। তবে ওই দিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে আভাস পাওয়া যায়, তিনি রাজনীতি করতে পারবেন না। পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই খালেদা জিয়া মুক্তি লাভ করেন এবং তাদের সঙ্গে সরকারের সমঝোতা হয়েছে বলে বিএনপির পাশাপাশি রাজনৈতিক অঙ্গনের সংশ্লিষ্ট সবাই মনে করেন। খালেদা জিয়ার ভাই শামীম এস্কান্দার এবং বোন সেলিমা ইসলাম প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বলেও বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়। ফলে চিকিৎসার জন্য বিদেশে নিতে হলে সেটি পরিবারের সঙ্গে সমঝোতার মধ্য দিয়ে হবে বলে মনে করছেন বিএনপি নেতারা।