চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাজারগুলোতে আমের সমাহার

প্রকাশিত: ৭:২৪ অপরাহ্ণ, জুন ২১, ২০২০

মধুমাস জৈষ্ঠ্যের শেষেই জমে উঠেছে আমের রাজধানীখ্যাত চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিভিন্ন আমবাজার। দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় আমবাজার কনসাট এখন নানান বাহারী জাতের আমের মৌ মৌ মিষ্টি ঘ্রাণে মুখরিত। ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ক্ষীরসাপাত, লখণা ও ল্যাংড়া আমে বাজার পরিপূর্ণ। প্রতিকূল আবহাওয়া ও ঘূর্ণিঝড় আম্পানের প্রভাবে ফলন কম হলেও দাম ভালো থাকায় খুশি আমচাষী, ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্ট সকলেই। দেশের বিখ্যাত ফজলি আম সবে মাত্র ভাঙ্গা শুরু হয়েছে। রাজধানীসহ সারা দেশে জেলার সর্ববৃহৎ আমের বাজার কানসাট বাজারের সুনাম ছড়িয়ে আছে। বিক্রেতা ও বিভিন্ন জেলার ব্যবসায়ীদের সমাগমে বর্তমানে পরিপূর্ণ হয়ে থাকে আমের বাজার। প্রতিদিন এই বাজার থেকে আম কেনা-বেচায় লেনদেন হচ্ছে কয়েক কোটি টাকা। এই বাজার ঘিরে প্রায় সকল কয়েকটি ব্যাংকের শাখা অফিসও রয়েছে। তাছাড়া পুরো বাজার জুড়ে রয়েছে মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবস্থা। কানসাট বাজার ছাড়াও জেলা সদরের মহারাজপুর ফিল্টের হাট, রহনপুর স্টেশন, নাচোল, ভোলাহাটের আম বাজারগুলোও জমে উঠেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, কানসাট আম বাজারে শিবগঞ্জ-সোনামসজিদ সড়কের কানসাট বাজার এখন আমময় হয়ে উঠেছে। প্রতিদিন সকাল থেকে প্রায় সন্ধ্যা পর্যন্ত চলছে আম কেনা-বেচার ধুম। তবে করোনা ভাইরাসের প্রভাবে ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভিড়ে বাজার এখন বিগত বছর গুলোর চেয়ে একটু কম সরগরম। ক্ষীরসাপাত (হিমসাগর), ল্যাংড়া, দুধস্বর, কালুয়াসহ বিভিন্ন প্রজাতি আম দুই হাজার থেকে চার হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এই বাজারে প্রতিদিন জেলার শিবগঞ্জ, সদর, নাচোল, গোমস্তাপুর, ভোলাহাট উপজেলাসহ বিভিন্ন অঞ্চলের বিক্রেতারা আম বিক্রি করতে আসেন।

আম ব্যবসায়ি সেলিম হোসেন বলেন, এখানে কোনো প্রকার দালাল ছাড়াই সঠিক মূল্যে বাগান মালিকদের নিকট থেকে সরাসরি আম ক্রয় করা হয়। এতে আম ব্যবসায়ীরা অনেক সুবিধা পাচ্ছেন। বর্তমানে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমের কদর অনেক বেশি। আর যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো থাকায় যেকোনো বাজারের তুলনায় কানসাটে আম ক্রয় করলে যাতায়াত খরচ অনেক কম লাগে। এছাড়া বাজার ঘিরে একাধিক ব্যাংক ও মোবাইল ব্যাংক থাকায় ক্রেতা বিক্রেতাদের লেনদেনও অনেক সহজ হয়ে উঠেছে।

কানসাট বাজারে অবস্থিত একটি বেসরকারী ব্যাংক কর্মকর্তা বলেন, আমের মৌসুমে আমাদের এই শাখায় গ্রাহকদের লেনদেনে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়। শুধু আমের মৌসুমেই প্রতিদিন এই শাখা থেকে এক থেকে দেড় কোটি টাকা অতিরিক্ত লেনদেন হয়। তবে বিগত বছর গুলোতে আরো অনেক বেশী হতো। বর্তমানে মোবাইল ব্যাংকিং-এর সুবিধা হওয়ায় অনেকেই শাখা অফিসে আসতে চায় না। তিনি আরো বলেন, কানসাট বাজারে যতগুলো ব্যাংক শাখা রয়েছে তাতে এই মৌসুমে প্রতিদিন মোটা অঙ্কের টাকা লেনদেন হয়।

এ ব্যাপারে কানসাট বাজার ইজারদার বাবুল হোসেন বলেন, এই আমের বাজারদেশের মধ্যে অন্যতম। প্রায় এক ডজন কুরিয়ার ও পার্সেল সার্ভিসের পাশাপাশি প্রতিদিন শতাধিক ট্রাক আম বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে। এখানে আড়ৎ গুলোতে আম কেনা-বেচায় কয়েক কোটি টাকা লেনদেন হয়। বিভিন্ন হয়রানি প্রতিরোধ করতে আমের বাজার ঘিরে সার্বক্ষনিক আমাদের নিয়োগকৃত লোকজন তদারকি করছেন। এছাড়া গ্রাম পুলিশ ও থানা পুলিশ সব সময় নজরদারি করছেন।

শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাকিব-আল-রাব্বি জানান, জেলার আমকে ব্র্যান্ডিং করতে জেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় কানসাট আম বাজারে আমের বেচাকেনায় কোনধরনের যাতে সমস্যা না হয়, সেটিকে গুরুত্ব দিয়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহন করা হয়েছে।